৩০ কিলোমিটারই যথেষ্ট বলে শপথ নিলেন বাসচালকেরা

দৃশ্যপট-১: জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা। সকাল সাড়ে দশটা। শতাধিক মোটর সাইকেলে বসা শ’দুয়েক তরুণ। একটু পরই তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করবে। উদ্দেশ্য নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে গাড়ির গতি কমিয়ে আনার প্রচারণা।

দৃশ্যপট-২: মহাখালী বাস টার্মিনাল। সকাল এগারোটা। একত্র হয়েছেন শতাধিক বাসচালক। বোর্ডে স্বাক্ষর করে শপথ নিচ্ছেন তারা- আবাসিক এলাকা, স্কুল, হাসপাতালসহ যেসব সড়কে পথচারী ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলে, সেখানে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতি তুলবেন না।

আজ শনিবার (১৩ মে) সকালে ব্যতিক্রমী এ দুটি অনুষ্ঠানেরই আয়োজক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ৮-১৪ মে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘গ্লোবাল রোড সেফটি উইক’ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ব্র্যাক এই সড়ক নিরাপত্তা প্রচারাভিযানের আয়োজন করে। যানবাহনের গতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ প্রচরাভিযানের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীবন বাঁচাও, গতি কমাও’ (Save Lives #Slow Down)।

সকাল সাড়ে দশটায় প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করেন বিআরটিএ-র চেয়াম্যান ও জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্য সচিব জনাব মো. মশিয়ার রহমান। এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডেনমার্কের বাংলাদেশস্থ রাষ্ট্রদূত মিকায়েল হেমনিতি উইন্টার (Mikael H. Winther), এশিয়ান ইনজুরি-থাইল্যান্ডের চেয়ারপার্সন রত্নাওয়াডে হেমনিতি উইন্টার, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, অ্যাডভোকেসি কর্মসূচির পরিচালক কেএএম মোরশেদ প্রমুখ। প্রচারাভিযানে অংশ নেয় রোড রাইডার্স মোটর বাইক প্রুপের প্রায় দুই শত সদস্য।

মহাখালী বাস টার্মিনালে নির্দিষ্ট গতিতে বাসচালনার শপথ করেন বাসচালকরাউদ্বোধনকালে মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ‘যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত গতি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাই আমাদের সকলেরই উচিত গাড়ির গতি কমানোর প্রচারণা চালানো।’

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী যে রোড সেফটি উইক উদ্যাপিত হচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে আজ ব্র্যাকের এই আয়োজনে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। গাড়িচালকদের আহ্বান জানাই- আসুন ধীরে চলি, নিজে বাঁচি এবং অন্যদেরও বাঁচাই।

ব্র্যাকের পক্ষে আহমেদ নাজমুল হুসেইন বলেন,‘দুর্ঘটনারোধে ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালকদের প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা তৈরি ও গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন।’

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে আসার পর এখানকার বাসচালকরা এতে সংহতি প্রকাশ করেন। টার্মিনালের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তারা নির্দিষ্ট গতিতে বাসচালনার অঙ্গীকার করেন। পরে কাকলি-বনানী গিয়ে এই প্রচারাভিযান শেষ হয়। পথিমধ্যে কয়েক জায়গায় বাসচালক ও পথচারীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা