সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা

মৌলিক সেবার মান উন্নয়ন ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বর ওপর গুরুত্ব দিলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মৌলিক সেবার মান উন্নয়নের প্রতি আমাদের বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আর তা সম্ভব কেবল সরকার, নাগরিক সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিমালিকানা খাতের মধ্যে অর্থপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বর মধ্য দিয়ে।

আজ বুধবার (১৭ই জানুয়ারি, ২০১৮) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০১৮-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পক বিভাগ আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী এ সম্মেলনে প্রথম দিন প্যানেল আলোচক হিসেবে তিনি এ বক্তব্য রাখেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মুসা, সংস্থাটির স্ট্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড ইমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির উর্দ্ধতন পরিচালন আসিফ সালেহ, অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ কর্মসূচির পরিচালক কেএএম মোর্শেদ প্রমুখ।

আলোচনায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকবেলায় তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এগুলো হচ্ছে: চরম দারিদ্র্য নিরসন, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটানো।

তিনি বলেন, “চরম দারিদ্র্য নিরসনে আমার প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক অতিদারিদ্র্য থেকে উত্তরণে ‘গ্র্যাজুয়েশনভিত্তিক’ একটি মডেল তৈরি করেছে যা বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের অতিদারিদ্র্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ রেখেছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে সেখানকার পরিস্থিতির উপযোগী করে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

তিনি মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের দৌড়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে যেসব সাফল্য অর্জন করেছিল তার কিছু কিছু বর্তমান সময়ে এসে থমকে গেছে। এর একটি মাতৃমৃত্যু অনুপাত বা এমএমআর ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল সময়কালের মধ্যে প্রতি এক লাখ জীবিত নবজাতক জন্মের বিপরীতে ১৯৬-তে থেমে আছে। কেন এক্ষেত্রে যে দারুণ অর্জন বাংলাদেশ করতে পেরেছিল তা থমকে গেছে তার অন্তর্নিহিত কারণগুলোকে আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।”

তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ শিশু শিক্ষার্থীর উপযোগী করার উপর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গুরু প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের প্রয়োজন মেটাতে হলে শিক্ষকদের উপযুক্ত পরিচিতিমূলক ধারণা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।”

স্যার ফজলে হাসান আবেদ এসব সমস্যা মোকবেলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষভাবে তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিপুল চ্যালেঞ্জ সরকারের একার পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে আস্থাভাজন অংশীদারদের সহায়তা সরকারের প্রয়োজন হবে যেখানে সুশীল সমাজ অত্যন্ত গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।”

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা