চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করলে নারীর সামাজিক অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়বে

পুরুষের পাশাপাশি নারীদের মধ্যে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করলে ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত বাড়বে, যা টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে (এসডিজি-৫) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে; যার মধ্যে সামাজিক বাধা, পারিবারিক নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞানের অভাব, যথাযথ উৎসাহ না থাকা এবং আইসিটি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আজ (২৫শে এপ্রিল, ২০১৮) বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক গবেষণা উপস্থাপনায় এ তথ্য উঠে আসে। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন বিআইআইডি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন আকবর। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৪ জন নারীর মধ্যে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এটি পরিচালনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, এমপি। ২৬ এপ্রিল ইন্টারন্যাশনাল গার্লস ইন আইসিটি ডে (আন্তর্জাতিক মেয়ে শিশু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস) উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (বিআইআইডি), ব্র্যাক, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও প্রিনিউরল্যাব যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির হেড অব চাইল্ড প্রটেকশন তানিয়া নুসরাত জামান। ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ, টেকনোলজি ও পার্টনারশিপ স্ট্রেংদেনিং ইউনিটের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হেড অব আইটি রবিউল আলম চৌধুরী নারীদের মধ্যে আইসিটি সহজতর ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন।

গবেষণার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আইসিটির ক্ষেত্রে মেয়ে ও নারী অংশগ্রহণ যদি ৩৩.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮২ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ১.৬ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হতো। এতে সরকারের ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও সহজতর হতো।

গবেষণায় নারীদের সাক্ষাতকারভিত্তিক জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে তারা আইসিটি শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন; এগুলো হচ্ছে: আইসিটি শিক্ষায় নারীদের মানসিকতার পরিবর্তন করা; আইসিটি শিক্ষায় যথাযথ জ্ঞানের অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত দক্ষতার অভাব।

অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আইসিটিতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব প্রদান করেন। এগুলো হচ্ছে: আইসিটি বিষয়টিকে সকলের কাছে জনপ্রিয় করা, আইসিটিকে বিশেষায়িত পেশা হিসেবে মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের বার্তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সাল নাগাদ নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। তাই গ্রাম-শহরকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সরকার ডিজিটাইলাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া তিনি আইটি শিক্ষার উপর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সচেতনতার পাশাপাশি বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ‘আইটি বৃত্তি’ চালু করা যেতে পারে।

জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার আইটি ক্ষেত্রে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৩ লাখ তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে । পাশাপাশি আইটিতে মেয়েদের উৎসাহিত করতে আমরা প্রশিক্ষণে নারীদের জন্য ২০-৩০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রেখেছি।

অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা নারীদের আইসিটি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও সমতার সুযোগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য শিক্ষার কারিকুলামে আইসিটি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আরও আধুনিকায়ন করা; এই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও আইসিটি চাকরির ক্ষেত্রে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আই টি ইউ) এই দিনটি প্রতি বছর এপ্রিল মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবারের ন্যায় এবারো আয়োজন করতে যাচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০,০০০ এরও অধিক নারী ১৬৬ টি দেশে দিবসটি পালন করছে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা