সড়ক দুর্ঘটনারোধে নৌবাহিনীর গাড়িচালকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ব্র্যাক

নৌবাহিনীতে কর্মরত গাড়িচালকদের দক্ষতার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ব্র্যাক। রাজধানীর উত্তরার আশকোনায় ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে গত ২২শে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চার দিন ব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নৌবাহিনীতে কর্মরত ২৪ জন গাড়িচালক অংশ নেন। এতে তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নৌবাহিনীর গাড়িচালকদের জন্য আয়োজিত এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক নাম ‘সড়ক নিরাপত্তা এবং আত্মরক্ষামূলক গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ’, সংক্ষেপে যা ‘সুরক্ষা’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার উঁচুহার হ্রাসে গাড়িচালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত দক্ষতা উন্নয়নের ভূমিকা অপরিহার্য এই উপলব্ধি থেকে ব্র্যাক ২০১৪ সালে এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি চালু করে। গাড়িচালনা প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সংস্থা হিউবার্ট এবনার-এর সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি পরিচালিত হচ্ছে।

এতে প্রশিক্ষণার্থীদের দুটি আঙ্গিকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর একটি হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা দিক সম্পর্কে অবহিত করা, গাড়ি চালানোর সময় নিজেকে রক্ষার কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং চালকের আচরণগত পরিবর্তন। অপরটি হচ্ছে ‘পি ড্রাইভ’ পদ্ধতিতে চালক কতটা নিরাপদ তা পর্যবেক্ষণ করা। ‘পি ড্রাইভ’ হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত চালকের দক্ষতা যাচাইয়ের একটি পদ্ধতি।

ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপনায় ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল থেকে এ পর্যন্ত ১২০০ জনেরও বেশি গাড়িচালককে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ইতিপূর্বের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ‘সুরক্ষা’ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের সড়কে আচরণ ও ব্যবহারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে যা সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক সংবাদ প্রতিবেদনে বেপরোয়া গাড়িচালনাকে ৯০ শতাংশের বেশি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করে। সড়ক দুর্ঘটনার উঁচুহার হ্রাসে তাই গাড়িচালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়িচালনার প্রশিক্ষণ জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

নৌবাহিনীর গাড়ীচালকদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন একটি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর লেফটন্যোন্ট কমান্ডার সানজিদা হোসাইন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এনায়েত হোসেন। সভায় বক্তারা প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা