জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহায়তায় ব্র্যাকের সমীক্ষা

২৭শে  সেপ্টেম্বর ২০১৮, ঢাকা। বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ‘দ্বিতীয় জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিআইপি-২) : পুষ্টিবান্ধব খাদ্যব্যবস্থা’ শীর্ষক কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এক দশকে ভিটামিন এ, আয়রন ও জিংকের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ শে সেপ্টেম্বর) সকালে এই কর্মসূচির সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণের উপরে এক আলোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এই অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির ব্যয়ের সম্ভাব্য ফলাফলের নিবিড় বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহায়তায় ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগ এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করে। এর আগে এই বিষয়ে আরও চারটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। এবারের পঞ্চম বিশ্লেষণটিই চূড়ান্ত বলে আয়োজকরা জানান।

ব্র্যাকের খাদ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ডা. কাওছার আফসানার সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে সাম্মানিক অতিথি হিসেবে স্কাইপে বক্তব্য রাখেন খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র পলিসি এনালিস্ট বেনিয়িস্ট ভেলিরেত্তি। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক  এম. বদরুল আরেফিন, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি কাউন্সিলের মহাপরিচালক ডা. মো. শাহ নেওয়াজ।

অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার ৫টি কার্যক্রমের বিষয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। এই ৫টি কার্যক্রম হচ্ছেÑপুষ্টিবান্ধব কৃষির উন্নয়ন ও প্রসার, পুষ্টিকর ছোট মাছ চাষের প্রসার ও মৎস্যবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্যে রান্না, খাবার সংরক্ষণ এবং ঘরে খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে সচেতনতার প্রসার, নারী-শিশু-বৃদ্ধ-প্রতিবন্ধী, দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীসহ সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসুচি নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বিশেষত মা ও শিশুর জন্য পুষ্টিবান্ধব কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্তি।

প্রথম বিশ্লেষণে বলা হয়, এই প্রকল্পে ১৬ লাখ নারীকে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে ১১ বছরের মধ্যে ১ কোটি  ২৩ লাখ সবজিবাগান হবে। এর ফলে ৪.৫ % আয়রন, ৮% জিংক এবং ১০০ ভিটামিন এ-র ঘাটতি হ্রাস পাবে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে তারা এসব বিক্রিও করতে পারবে। এর ফলে ব্র্যাকের হিসাব অনুযায়ী সার্বিক লাভ হবে প্রতি ডলারে  ২.৬ ডলার।
ছোট মাছ চাষের পরিকল্পনার আওতায় এই প্রকল্পে মলা মাছ চাষকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৩২ লাখ পুকুর মালিককে মলা মাছ চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে আয়রন ১৫%, জিংক ২৫% এবং ভিটামিন এ-র ১০০% ঘাটতি কমবে। হিসাবমতে, এই খাতে প্রতি ডলার বিনিয়োগে ৪ ডলার সমমূল্যের লাভ পাওয়া যাবে ।

আরেক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মা ও শিশুর পুষ্টিচাহিদার প্রতি খেয়াল রেখে বাসায় পুষ্টিকর খাবার রান্না, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণে নিবিড় প্রশিক্ষণ জরুরি। এর ফলে পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কম ওজনের শিশু জন্মহার হ্রাস পাবে।

নারী-শিশু-বৃদ্ধ-প্রতিবন্ধী, দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীর কাছে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসুচি পৌঁছানোর লাভটা সুদূরপ্রসারী। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এই খাতে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে ২৮ ডলারের সমপরিমাণ লাভ পাওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বেনিয়িস্ট ভেলিরেত্তি পুষ্টি উন্নয়নে বৈচিত্র্যময় খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি  বলেন, তবে এক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না বরং কম খরচে কিভাবে বেশি পুষ্টি নিশ্চিত করা যায় সেদিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

এম. বদরুল আরেফিন বলেন, জনসাধারণের পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করা এখন আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ডা. মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশ এখন সবজি চাষ, মৎস্য ও পশু সম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ।  এতে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টির ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন ঘটেছে।  এক্ষেত্রে আমরা এখন সরকারের জাতীয় খাদ্যনীতি ও পুষ্টিনীতির আলোকে অ্যাডভোকেসি করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

ডা. কাওছার আফসানা বলেন, পুষ্টিবান্ধব পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্তভিত্তিক মৌলিক গবেষণা থাকা দরকার। ব্র্যাক এ ধরনের গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড পরিচালনা করবে।

দরিদ্র মা ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশেষ পুষ্টিমানসম্পন্ন চালের মতো খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পুষ্টিবান্ধব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে  হবে বলে সমীক্ষায় মত প্রকাশ করা হয়। পরিশেষে বলা হয়, উপরোক্ত সকল ক্ষেত্রেই  বর্তমানের বিনিয়োগ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে জাতির উন্নয়নের জন্য জরুরি।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা