মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধীদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ব্র্যাক-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, প্রতিবন্ধীদের সুবিধার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করেছেন। কিন্তু সমস্যা হয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এখনও আমরা মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে পারিনি। তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের মেধাকেও কাজে লাগানো উচিত। তাই প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে মেট্টোরেলে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

আজ রোববার (২ ডিসেম্বর, ২০১৮) স্টেকহোল্ডার পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক একথা বলেন। ৩ ডিসেম্বর প্রতিবন্ধী দিবসকে সামনে রেখে ব্র্যাক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই সভার আয়োজন করে।

এসময় মেট্টোরেলে প্রতিবন্ধীসহ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ব্র্যাক-এর মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ ও ব্র্যাকের পক্ষে সই করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মুসা।

এ চুক্তির ফলে প্রতিবন্ধীরা সহজে মেট্টোরেলে প্রবেশগম্যতার পাশাপাশি সবশ্রেণীর মানুষের জন্য ডিজিটাইলেজশনের ব্যবস্থা ও পাবলিক সেক্টরে অন্যান্য অবকাঠামো সমানভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ এক সঙ্গে কাজ করবে।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম। আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ, অষ্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনার পেনি মর্টন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মুসা, ঢাকা ম্যাস ট্রানজটি কোম্পানি লিমিটিডেরে (ডএিমটসিএিল) ব্যবস্থাপনা পরচিালক এম এ এন সিদ্দিক , প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ডব্লিওডিডিএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার বৃষ্টি, ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জের পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ প্রমূখ।

এটা শুধু সমঝোতা স্বাক্ষর নয়, এটা একটা প্রতিশ্রুতিও উল্লেখ করে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ব্র্যাক সবসময় প্রতিবন্ধীসহ সকল সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে আছে এবং থাকবে।

তিনি বলেন, এটা সত্য যে, আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপর। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন নির্মাণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এ এগিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতিতে একটা নেতিবাচক প্রবণতা রয়ে গেছে। কারন প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছতে পারছে না। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সমাজের যারা সবচেয়ে বেশি সুবিধাবঞ্চিত হিসেবে বিবেচিত, সেই প্রতিবন্ধীদের সুবিধার দিক লক্ষ্য রেখে আমরা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।

কে এম আব্দুস সালাম বলেন, এটা একটা চমৎকার ধারণা, বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি। শারীরিকভাবে যারা প্রতিবন্ধী আছেন, তাদের জন্য বিশেষ টয়লেট, বসার ব্যবস্থা থাকবে। এখন যে মেট্টোরেল চলছে তাতে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভাড়া কমানো, সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, আর্থিক প্রভিশন রাখা। আপনারা আস্থা রাখুন। সরকার মানবিক। অর্ধেক বাড়ার বিষয়টিও আশা করি সরকার উদারভাবে চিন্তা করবে।

এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ভবিষ্যতে আরও চারটা মেট্টোরেল আসবে। বর্তমান মেট্টোরেলের যে কাজ চলছে তাতে এখনও সংশোধানের সুযোগ আছে। যারা বয়স্ক ও সুবিধাবঞ্চিত, তাদের ভাড়া নির্ধারণে বিশেষ সুযোগ থাকবে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা