৪ লাখ নারী-পুরুষকে দক্ষতা প্রশিক্ষণ দিয়েছে ব্র্যাক

গত আট বছরে চার লাখ নারী-পুরুষকে বিভিন্ন অ-কৃষি খাতের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দিয়েছে ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। এদের অনেকে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আবার অনেকেই নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। আজ মঙ্গলবার (২৩শে জুলাই ২০১৯) আয়োজিত দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক কর্মকর্তারা এসব তথ্য দেন। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সংস্থাটি দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রদর্শনী, এ বিষয়ক বই প্রকাশ এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গত ১৫ই জুলাই জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব দক্ষতা উন্নয়ন দিবস পালনের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।

‘এসডিজি-৮: যুব জনগোষ্ঠী, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক আলোচনাপর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ, ব্র্যাকের পরিচালক কেএএম মোরশেদ। অনুষ্ঠানে “স্টার টুলকিট: ইন্ট্রোডিউসিং এ সাকসেসফুল আন্ট্রোপ্রেনিওরশিপ” শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

দক্ষতা উন্নয়নে অর্থাায়ন বিষয়ে আরেকটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অস্ট্রেলিয় হাই কমিশনের বৈদেশিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বিভাগের ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা নওমেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার মাশফিক ইবনে আকবর, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সোশ্যাল সেক্টর স্পেশালিস্ট ঝিগ্যাং লি, ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ তোমু হোজোমি।

ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বর্তমানে দক্ষতা উন্নয়ন ও অন্যান্য সেবা, সরকার ও শিল্পখাতের নেতৃত্বের সঙ্গে যৌথভাবে বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কাজ করছে। বর্তমানে এটি আটটি কর্মসূচি বা কার্যক্রমের মাধ্যমে মহানগর, পৌরসভা এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে কাজ করছে। কর্মসূচি আটটি হচ্ছে: সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণ (স্টার প্রকল্প), দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (প্রসপার), ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা (প্রমিজ), টেকসই দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দরিদ্রবান্ধব গ্রামীণ ব্যবসার প্রসার (প্রগ্রেস), ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিকল্প শিক্ষা কর্মসূচি (এএলপি), সমন্বিত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা মজবুতকরণ (প্রাইজ), রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, এবং কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষানবিশিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণ (স্টার) প্রকল্পটি দিয়ে ব্র্যাকের কারিগরি খাতে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য - এতে ওস্তাদ-শাগরেদের মাধ্যমে কাজ শেখার হাজার বছরের পুরানো সামাজিক পদ্ধতিটির আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে এমন দক্ষ ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের কাছে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া হয় কাজ শেখার জন্য। এজন্য ওস্তাদদের ন্যূনতম সম্মানীও প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে একদিকে কিশোর-তরুণরা কাজ শিখতে পারে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণে যে ব্যয় সেটিও বাঁচানো হয়। ফলে প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যয় কমে আসে। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের সম্মানজনক পরিবেশে চাকরি প্রাপ্তি অথবা নিজের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠায় ব্র্যাক নানা ধরনের সহায়তা করে থাকে।

স্টার প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯৫ শতাংশেরই শোভন কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী শিক্ষানবিশদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে ৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের আয় ও কর্মসংস্থান আগের চেয়ে ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পের এই অনন্য মডেলটি ব্র্যাক তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকারের উপানুষ্ঠিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে এবং জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো (NTVQF)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে।

আলোচনা পর্বে বিশেষজ্ঞরা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার, দাতাগোষ্ঠী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তাঁরা বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ সার্বিকভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

ক্রমবর্ধমান তরুণ-যুব জনগোষ্ঠী, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ও দক্ষতার অভাব, অদক্ষ ও কম দক্ষ শ্রমিকের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন, নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, নগর সম্প্রসারণ ও নগরবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি - এমন একটি আর্থসামাজিক পটভূমিতে ব্র্যাক বিভিন্ন কারিগরি পেশায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করে।

দেশের ভেতরের এবং প্রবাসী শ্রমবাজারকে লক্ষ্য রেখে বর্তমানে ১৫টি ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। এসব ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে: সেলাই ও পোশাক তৈরি, মোবাইল ফোন মেরামত, কাঠের আসবাব তৈরি, বিউটি পার্লার ও সেলুন, ফ্রিজ ও এসি সারাই, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ভিত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, গ্রাফিক ডিজাইন, আইটি টেকনিশিয়ান, অ্যালুমিনিয়াম ফেব্রিকেশন, মোটরসাইকেল মেরামতি, কাঠের আসবাব নকশা, বৈদ্যুতিক হাউজ ওয়্যারিং, ব্লক-বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্টিং এবং জরি-চুমকির কাজ।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা