ব্র্যাকের প্রতিবন্ধীবান্ধব ওয়েবসাইট উন্মোচন

ইন্টারনেট সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অর্থ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রবেশ করার সুবিধা দিয়ে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিশেষত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা প্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন না। তাই তাঁদের জন্য এসব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁরা যেন ওয়েবসাইট বুঝতে, পরিচালনা করতে এবং যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটিকে “প্রতিবন্ধীবান্ধব” ওয়েবসাইটে রূপান্তর করেছে বিশ্বের এক নম্বর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

রবিবার (৮ই সেপ্টেম্বর) সকালে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনডিপির মানবাধিকার বিভাগের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা শারমীলা রাসুল। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইসমাইল এবং উপসচিব ড. মো. আবুল হোসেন।

প্রায় তিন মাস ধরে ব্র্যাককর্মীরা এই ওয়েবসাইট রূপান্তরের কাজটি করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) বিভাগ এই কাজটি নিরীক্ষণ করেছে। ব্র্যাকের ওয়েবসাইটের প্রতিবন্ধীবান্ধব নতুন ফিচারগুলোর সাহায্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব ও ফোন ব্যবহার করে এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন। কন্ঠস্বরের মাধ্যমে ওয়েবসাইটটি পরিচালনায় সহায়তা পাওয়া যাবে। শুধু কীবোর্ডের মাধ্যমেও এটা চালানো সম্ভব। এতে প্রয়োজনমতো অক্ষর ছোট-বড় করার সুবিধা আছে। চোখের উপর চাপ কমাতে ছবি সাদাকালো বা অন্য রঙে পরিবর্তন করা যাবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন তথ্য কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে শুনতে পারবেন। ছবির বর্ণনাও পাবে শুনতে পারবেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম বলেন, “গত এক দশকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এখন এর মাধ্যমে জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিবন্ধীরাও এর বাইরে নয়।”

ইউএনডিপি-র মানবাধিকার বিভাগের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা শারমীলা রাসুল বলেন, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এতদিন ধরে দাতব্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন তা থেকে বের হয়ে মানবাধিকারকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কার্যক্রম চালাতে হবে।”

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা নেতুত্ব দিচ্ছেন তাদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। প্রতিবন্ধীরা পারবে না, এই মানসিকতা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”

বাংলাদেশ সরকারের ভিশন ২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে সবার জন্য ইন্টারনেট সহজলভ্য ও ব্যবহারোপযোগী করা আবশ্যক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ মতে, বাংলাদেশের ৪০ লক্ষ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশনেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সর্বজনীন নকশা তৈরি এবং সবক্ষেত্রে তাদের অভিগম্যতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই ব্র্যাক তার ওয়েবসাইটটিকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে তুলল। ব্র্যাক আশা করে, অন্যান্য দেশি-বিদেশি সংস্থাও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসবে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা