সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের নারী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ করেন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘নারী গাড়িচালকেরা নিয়ম মেনে চলেন, ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চালান। তাঁরা নেশা করেন না, দায়িত্ব পালনের সময় মোবাইল ফোনে কথাও বলেন না। তাই যত বেশি নারীচালক নিয়োগ দেওয়া হবে, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ততটাই কমবে।’

আজ শনিবার (২৫শে জানুয়ারি) ব্র্যাকের আয়োজনে নারী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘উইমেন বিহাইন্ড দ্য হুইল ফর রোড সেফটি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব কাজী রওশন আখতার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।

সড়ক নিরাপত্তা এবং নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার জন্য পেশাগত নারী গাড়িচালক তৈরির কার্যক্রম ব্র্যাকের একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। নারী প্রশিক্ষণার্থীদের এই ৮ম ব্যাচে মোট ১১ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। উত্তরার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ৩ মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণশেষে এদের শতভাগই উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং লাইসেন্স পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর ব্র্যাকের প্রশাসন এবং সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসাইন ‘উইমেন বিহাইন্ড দ্য হুইল ফর রোড সেফটি’ বিষয়ে প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল চালু হয়। মূলত পিছিয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণে মৌলিক গাড়িচালনা, সুরক্ষামূলক গাড়িচালনা, সাধারণ মেরামতি কাজ ও পেশাগত আচরণ শেখানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চাই ব্র্যাকের মতো আরও প্রতিষ্ঠান নারীর স্বনির্ভরতা অর্জনে এগিয়ে আসুক। গাড়িচালনায় কয়েকমাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কোনো নারী যদি চাকরি না পান, তাহলে এই উদ্যোগ পুরোটাই ব্যর্থ হবে। তাই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী গাড়িচালকের চাকরির পথ সুগম করতে হবে। সরকার এই বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব কাজী রওশন আখতার বলেন, ‘ব্র্যাকেরই একটি গবেষণায় আমরা দেখেছি, গণপরিবহনে ৯৪% নারী কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। তাই এদেশে নারী গাড়িচালকদেরও পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এর কারণগুলো আমাদের সম্মিলিতভাবে খুঁজে বের করতে হবে, সমাধানের উদ্যোগও যৌথভাবে নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেমবন, সাহিত্যিক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ব্র্যাকের পরিচালক আন্না মিনজসহ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, নিরাপদ সড়ক চাই ও পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল থেকে এ পর্যন্ত অপেশাদার মৌালিক গাড়িচালনা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮৮ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৭৩ জন নারী। পেশাদার চালকের প্রশিক্ষণ পেযেছেন ১০ হাজার ৩৭৩ জন, যার মধ্যে ২১৪ জন নারী। ৫৯৯ জন নারীকে মোটরসাইকেল চালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এদের অনেকেই আজ সরকারি, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন সংস্থা ও বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন।

২০১১ সাল থেকে ব্র্যাকের কমিউনিটি রোড সেফটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের আওতায় এ পর্যন্ত ১২ লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ পেয়েছে। ৫ হাজার ৪৫১ জন স্কুলশিক্ষক এবং ৪ লাখ ৯৮ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্্ ভবিষ্যতে ব্র্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল প্রতিটি জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে বলে জানান। এছাড়াও ব্র্যাক একটি রোড সেফটি ইনস্টিটিউটও প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তার জন্যে, বিশেষত নারীবান্ধব সড়ক গড়ে তুলতে সরকারের সঙ্গে ব্র্যাক একযোগে কাজ করে যাবে।’

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা