সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে

আমাদের দেশের তরুণদের অধিকাংশই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। তাই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে এদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি আমাদের নারীরা কারিগরি শিক্ষার প্রতি কম আগ্রহী, তাদেরকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির সহায়তায় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত একটি গবেষণায় এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। দক্ষতা প্রশিক্ষণে যুবসমাজের বর্তমান ধারণা পরিবর্তনের জন্য এই গবেষণায় অর্থায়ন করে ডেনমার্ক দুতাবাস।

আজ রবিবার (১লা মার্চ) সকালে তেজগাঁওয়ের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সম্মেলন কক্ষে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভিইটি)’ বিষয়ে তরুণ প্রজন্ম এবং তাদের অভিভাবকদের মনোভাব জানা এবং যুবসমাজের কর্মক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব উপলব্ধি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনএসডিএ-র নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম মো. হাসিবুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন রেফিকা হেইটা, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব এবং ব্র্যাকের সিনিয়র অ্যাডভাইজার আবদুল করিম। সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কমৃসূচির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আফতাব উদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ৩টি বিভাগের ১০টি জেলার ২২ উপজেলা ও থানায় ন্যূনতম এসএসসি পাশ ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক, তাদের বাবা-মা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে এই গবেষণা-জরিপ পরিচালিত হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা তরুণ এবং ৫৪.২ শতাংশ বাবা-মা টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল ট্রেইনিংকেই (টিভিইটি) দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চাকুরি প্রাপ্তির উপায় হিসেবে মনে করেন। কিন্তু মাত্র ১১ শতাংশ যুবক মাধ্যমিক স্তরে ভোকেশনাল ট্রেনিং-এর সুযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন, যার মধ্যে শুধুমাত্র ৩.২ শতাংশই এই শিক্ষা নিয়েছিলেন। আর কারিগরি শিক্ষায় অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে ৪৬.৩ শতাংশ তাৎক্ষাণিক চাকুরি প্রাপ্তির লক্ষেই এই শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। অপরদিকে ৪৩.৩ শতাংশ তরুণ এটিকে শিক্ষার কোনো ধারা হিসেবেই বিবেচনা করেননি।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে আমাদের দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা ও তাদের কর্মসংস্থান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই দক্ষতার বিষয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। তবে জনসাধারণের বুঝতে হবে যে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বয়স কোনো অন্তরায় নয়। মোট শ্রমশক্তির ৬৭ শতাংশই তরুণ এবং বয়স্ক ও দক্ষদের সঙ্গে তারা কাজ করতে পারে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল ঘওে তুলতে হলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা একটি পূর্বশর্ত।’

এনএসডিএ-র নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম মো. হাসিবুল আলম বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্¦ দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার যখন যেখানে প্রয়োজন এই দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবরকম সহযোগিতা দিয়ে যাবে।’

ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন রেফিকা হেইটা বলেন, ‘যারা পড়াশোনা করছে না এবং যাদেও কোনো চাকরি নেই, তাদেরকে লক্ষ্য করেই আমাদের কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। এসডিজি অর্জন খুবই চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা নিশ্চিত করতে চাই যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে।’

ব্র্যাকের সিনিয়র অ্যাডভাইজার আবদুল করিম বলেন, ‘কার্যকর বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে ব্র্যাক জোরাল ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের শ্রমশক্তিতে আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ জনবল সম্পৃক্ত করতে ব্র্যাক তার অগ্রণী ভুমিকা পালন করে যাবে।’

অনুষ্ঠানে গবেষণার আলোকে কতগুলো সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে কমিউনিটি এবং স্কুল পর্যায়ে গণপ্রচারণা (মাস ক্যাম্পেইন) চালাতে হবে, নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আইসিটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভিইটি)-র ব্র্যান্ডিং এবং প্রমোশনের বিষয়ে আ্যাডভোকেসি করতে হবে, এর কারিকুলাম ও ট্রেনিং মডিউল যেন বিশ্বমানের হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা