আমরা গভীরভাবে শোকাহত

আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি (এসডিপি)-র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আফতাব উদ্দীন আহমদ আজ দুপুরে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

তিনি রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে ফুসফুসজনিত জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। চিকিৎসকরা জানান, তিনি কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন।

তিনি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে ব্র্যাক এ যোগান করেন। ব্র্যাকে যোগদানের আগে তিনি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি (সিইবিএআই)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। বাংলাদেশ মিলিটারি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ইএমই)-তে দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের সফল কর্মজীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইউনিসেফ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আইকেইএ, সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, ওয়াার্ল্ড ব্যাংক, ইউরোপীয় কমিশন, সিটি ব্যাংক এনএসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যকরভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারী-বেসরকারী অংশীদারত্ব তৈরির ক্ষেত্রে তিনি কৌশলগত নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাংক ও সুইসকন্টাক্ট-এর মতো কয়েকটি দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা তৈরির জন্য গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সদস্য। এ ছাড়াও জাতীয় শিক্ষানীতি, আনুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংস্কার, এডুকেশন ওয়াচ ২০১৩ এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নীতি তৈরির ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ইউসেপ বাংলাদেশ - এর প্রতিষ্ঠা এবং বেড়ে ওঠার পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সেক্টরে তাঁর অবদানের কথা সকলে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আফতাব ভাই ছিলেন সদালাপী, নিরহঙ্কার এবং প্রাণবন্ত একজন মানুষ। এমনকি গতকাল যখন তাঁর সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়, তিনি বলছিলেন ৭ দিনের ছুটি শেষেই আবার কাজে ফিরে আসবেন। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আমাদের সকল উদ্যোগের সঙ্গে তিনি শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন। বিগত কিছুদিন তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ না করা সত্ত্বেও সকল কাজে সমান উৎসাহী থেকেছেন। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের ভালোমানুষ, সৎ, আন্তরিক এবং নিষ্ঠাবান। দেশ এবং মানুষের কল্যাণে তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি পুত্র, কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও গুণমুগ্ধ রেখে গেছেন। আমরা তাঁর এই অকস্মাৎ প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর আত্মার চির শান্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা