জলবায়ু বিপদাপন্নতা কমাতে দৃষ্টান্তকারী উদাহরণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মত দুর্যোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা এবং অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু বিপদাপন্নতা কমাতে দৃষ্টান্তকারী উদাহরণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ই ডিসেম্বর) বিকেলে ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি আয়োজিত “বিল্ডিং রেজিলিয়েন্স টু ক্লাইমেট চেঞ্জ থ্রু ক্রাফটসমেনশিপ” শীর্ষক বই প্রকাশনা ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে এই কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন।

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা বলছে, ঝুকিতে থাকা মানুষ অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সেই প্রভাব মোকাবিলায় আমরা বাংলাদেশের সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আর্টিজানদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থার সাথে তাদের সংযোগ স্থাপন করে দিয়ে আর্টিজানদের জলবায়ু সহিষ্ণু করে গড়ে তোলায় তিনি আড়ংয়ের প্রশংসা করেন।

ব্র্যাকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন কীভাবে জলবায়ু বিপদাপন্ন এলাকার জনগোষ্ঠীকে সহিষ্ণু করে তোলে তা এই গ্রন্থে উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটিতে ১৪ জন কারুশিল্পীর জীবনের গল্প আছে, যেখানে উঠে এসেছে কিভাবে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি তাদের জীবন সংগ্রাম এবং আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন কিভাবে তাদের সম্ভাবনা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছে তা চিত্রায়িত করা হয়েছে।

ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, এমপি। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্-এর সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফল ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ-এর উপদেষ্টা ও ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডিএফএটি প্রধান কেট স্যাংস্টার প্রমুখ।

প্রধান অতিথি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই বইটি শুধু একটি প্রকাশনা নয়, এটি বাংলাদেশের গল্প। প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার স্বাভাবিক ক্ষমতা বাংলাদেশিদের আছে।ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হবে এবং দুর্যোগের মাত্রা বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পুরোপুরি প্রশমিত করা কার্যত সম্ভব নয়। তবে আমরা আমাদের সহিষ্ণুতা বাড়িয়ে লড়াই করতে পারি এবং ব্র্যাক ঠিক তাই করছে।”

তিনি আরও বলেন, “ মানুষকে নিজে থেকে সহিষ্ণু হয়ে উঠতে সহায়তা করছে আড়ং। অতি দরিদ্র মানুষের সহিষ্ণুতা বৃদ্ধির এ ধরণের উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামীতে বাংলাদেশকে টেকসই করবে।”

প্রকাশিত বইটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, “ বাংলাদেশের সবচেয়ে জলবায়ু ঝুকিতে থাকা ও ক্ষত্রিগ্রস্ত এলাকার আর্টিজানদের গল্প এই বইয়ে চিত্রায়িত হয়েছে। এই বইয়ের গল্পগুলি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং প্রকৃতির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা সবাই অনুভব করছি। এই গল্পগুলো হচ্ছে সেইসব মানুষের যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা শিখেছে কিভাবে মানিয়ে নিতে হয়, বাঁচতে হয়।”

অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডিএফএটি প্রধান কেট স্যাংস্টার বলেন, “ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং তাদের মধ্যে নারী ও শিশুরা। এই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হচ্ছে, সুন্দর ও সম্মানজনক কাজের মাধ্যমে কিভাবে মানুষ জলবায়ু সহিষ্ণু হয়ে ওঠে।”

ওয়েবিনারের সভাপতি ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, “ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে থাকা দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং এই বইয়ে উপস্থাপতি জেলাগুলিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আর্টিজানদের গল্পগুলি প্রকৃতপক্ষে টেকসই জীবনের গল্পকে চিত্রায়িত করে। এই মানুষদের সমর্থন করার জন্যই ব্র্যাক তৈরি হয়েছিল এবং বিদ্যমান আছে।”

উল্লেখ্য, সারা দেশে আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের ১৫টি উৎপাদন কেন্দ্র এবং এর অধীন ৬৯৬টি উপকেন্দ্র আছে। যেখানে আড়ং এর পণ্য উৎপাদন হয়। এই উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত।

বইয়ের লিংক : https://brac.net/downloads/resilience.pdf

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা