উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে এনজিওগুলোর জোটবদ্ধ হয়ে সরকারের সঙ্গে কাজের সমন্বয় রাখতে হবে

আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে, তৃণমূল পর্যায়ে মানূষকে সঠিক সময়ে যথাযথ সেবা দিতে বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোটবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কাজের সমন্বয় থাকতে হবে। ব্র্যাকের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বার্ষিকীর সময়েই প্রতিষ্ঠার ৪৯তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসাবে ব্র্যাক আজ ২১শে মার্চ রবিবার "বাংলাদেশ ও ব্র্যাক: উন্নয়নে সহযাত্রী" শীর্ষক এই অনলাইন আলোচনা সভার আয়োজন করে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সংসদ সদস্য ও প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যারোমা দত্ত, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী এবং প্রখ্যাত গবেষক ও প্রবীণ সাংবাদিক আফসান চৌধুরী।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, ক্ষুদ্রঋণ, নারী উন্নয়ন, মানবাধিকার ও আইনী সহায়তা, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা, সড়ক নিরাপত্তা, নগর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, অতিদরিদ্র কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের বিস্তার ঘটিয়েছে । সমাজের প্রান্তসীমায় অবস্থানকারী অতি দরিদ্রদের আয় সৃষ্টিকারী সম্পদ, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে ব্র্যাকের উন্নয়নের মডেলটি আজ বিশ্বের ৪৬টি দেশে অনুসৃত হচ্ছে। গত পাঁচ দশক বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে পথ চলেছে ব্র্যাক।

অনলাইন আলোচনায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানান অ্যারোমা দত্ত এমপি। তিনি বলেন, “আমাদের দেশ নারীর ক্ষমতায়নে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। সরকারের উদ্যোগ তো ছিলই, মাঠ পর্যায়ে এই অভাবনীয় পরিবর্তনটা এনেছে মূলত ব্র্যাক। সরকারও এসব কাজে ব্র্যাকের সহযোগিতা চায়।“

বাংলাদেশের সার্বজনীন শিক্ষা অর্জনে ব্র্যাকের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ গতিপথ বিষয়ে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন,“ ব্র্যাক আর বাংলাদেশ, তার সঙ্গে আবেদ ভাই যেন মিলেলিশে একাকার। ব্র্যাক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার দিকপাল থাকা সত্ত্বেও আবেদ ভাই কেন গণসাক্ষরতা অভিযানের মতো আলাদা প্ল্যাটফর্ম করলেন? ৯০ দশকের সরকারকে শিক্ষার উন্নয়নে একটা বেসরকারি জোটের মাধ্যমে চাপ দেওয়ার জন্যই তিনি এই আইডিয়া দিলেন। এবং তা সফল হলো। এর উদ্যোগেই ২০০৯ সালে এনজিও পরিচালিত স্কুলের শিশুরাও বিনামূল্যে সরকারি বই পাওয়া শুরু করল।“

গবেষক ও প্রবীণ সাংবাদিক আফসান চৌধুরী জাতীয় সামাজিক উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগী হিসেবে ব্র্যাকের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পশ্চিমা ধারণাগুলো ছেড়ে দেশের মানুষের চাহিদা বিবেচনায় রেখে কর্মকৌশল ঠিক করছে ব্র্যাক। আল্ট্রা পুওর নিয়ে আবেদ ভাই বলতেন, এর মাধ্যমে অনেক অতি দরিদ্র মানুষ ঋণগ্রস্ত না হয়ে স্বাবলম্বী হবে। দরিদ্রদের জন্য বাজারকে বিকশিত করায় তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন।“

ব্র্যাক বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ব্র্যাক আবেদ ভাই ও ব্র্যাকের সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশে এনজিও-র কাজকে সুসংহত করে তৃণমূল মানুষদের আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠায় উজ্জীবিত করা । অন্য দুটি অর্জন হচ্ছে কাজের কর্মকৌশলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া এবং বিদেশি সাহায্যনির্ভর না থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার জ্ন্য নিজেদের আয়ের ব্যবস্থা করা। সেই ধারণা থেকেই সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের জন্ম।

ভিডিও লিংক https://www.facebook.com/BRACWorld/videos/789330828350895

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা